কুরবানিকেন্দ্রিক আঘাতে আহত দুই শতাধিক – GalachipaProtidin.Com
কুরবানিকেন্দ্রিক আঘাতে আহত দুই শতাধিক – GalachipaProtidin.Com

ঈদের দিন কুরবানির মাংস প্রস্তুতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরিশালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পশু কুরবানি এবং মাংস প্রস্তুত করতে গিয়ে নানা ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা পশুর লাথি, শিংয়ের আঘাত, চাকু, ছুরির আঘাতে আহত হন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদীতে বাড়ির ছাদে কুরবানির পর মাংস প্রস্তুত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আমান সরদার (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে টরকী বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মামুন সিকদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিশামনি গ্রামের মোহন সরদারের ছেলে। তিনি ভায়রা সামচু ফকিরের সঙ্গে কুরবানির মাংস প্রস্তুতে সহযোগিতা করতে গিয়েছিলেন।

নিহতের ভায়রা সামচু ফকির জানান, ছাদে থাকা বিদ্যুতের তারে পা জড়িয়ে আমান বিদ্যুতায়িত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পশু কুরবানির সময় নানা ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ জন ভর্তি হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার বিকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পশু কুরবানি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত তারা আহত হয়েছেন। সবাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন সিলেটের গোয়াইনঘাটের আরকান্দি গ্রামের সেলিম আহমদ (৪৬)। তিনি বলেন, সকালে তিনিসহ আরও কয়েকজন মিলে গ্রামে পশু কুরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চারজন গরুটি ধরে রেখেছিলেন। হঠাৎ গরু লাফিয়ে ওঠে। তখন অন্যরা গরুর রশি ছেড়ে দেন। এ সময় পাশে থাকা আরেক ব্যক্তির ধারালো দা তার হাতে লেগে কেটে গেছে। পরে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের চরের বন্দের বাসিন্দা আকিব আলী (৪০) বলেন, কুরবানির সময় নিজ হাতে থাকা ছুরি পায়ে লেগেছে। এতে বাঁ-পায়ের বেশ কিছু অংশ কেটে গেছে। পরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৌলভীবাজারের শামসেরনগরের বাসিন্দা মিঠু মিয়া (২১) বাঁ হাতে ধারালো ছুরির আঘাত পেয়েছেন। এতে মিঠুর চারটি আঙুলের বেশ কিছু অংশ কেটে গেছে।

রাজধানী শ্যামলীর জাতীয় অর্থোপেডিক্স ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থোপেডিক্স সোসাইটির মহাসচিব ডা. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে পাড়া-মহল্লায় পেশাদার কসাইদের চেয়ে মৌসুমি কসাইদের উপস্থিতিই বেশি। অনেক সময় অসাবধানতা বা অজ্ঞতার কারণে মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে কেউ কেউ হাত-পা কেটে আহত হয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, ঈদের আগের দিন বুধবার নিটোরে ২৩৮ জন, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ৩০০ জন, পরদিন শুক্রবার ২০৩ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে ১২৭ জন কুরবানিকেন্দ্রিক বিভিন্নভাবে আহত হয়ে এসেছেন। এ সময় ২০৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এসেছেন।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেও প্রায় শতাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের সারাদিনে মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়ে শতাধিক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই হাতে ও পায়ে ধারালো ছুরি বা দায়ের আঘাত পেয়েছেন। আহত কয়েকজনের পাঁচ থেকে ১০টি পর্যন্ত সেলাই লেগেছে। তবে কারও ভর্তির প্রয়োজন হয়নি। সবাইকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *